রোহিঙ্গাদের রমাদান: ঘরহারা জীবনের কষ্ট, দোয়া আর ফিরে যাওয়ার অদম্য আশা

 রোহিঙ্গাদের রমাদান এক অন্যরকম বাস্তবতার নাম। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা যখন রমাদানকে আনন্দ, ইবাদত ও পারিবারিক মিলনের মাস হিসেবে পালন করেন, তখন রোহিঙ্গাদের কাছে এই মাসটি একই সঙ্গে ইবাদত, স্মৃতি, কষ্ট ও অপেক্ষার সময় হয়ে আসে। তাদের রোজা ও ইফতার করার কথা ছিল নিজেদের ঘরে, নিজের উঠানে, পরিচিত পরিবেশে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে বসে ইফতার করা, গ্রামের মসজিদে তারাবিহ আদায় করা, ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া—এসবই ছিল তাদের স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু বাস্তবতা তাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

আজ তারা শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। টিন ও ত্রিপলের ছোট ঘর, প্রচণ্ড গরম, সীমিত খাবার এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই সবকিছুর মাঝেই তারা রোজা রাখছে। সাহরির সময় অনেক পরিবার খুব অল্প খাবারেই দিন শুরু করে, কারণ কীভাবে ইফতার পর্যন্ত সামাল দেবে সেই চিন্তাও থাকে। তবুও তাদের মুখে ধৈর্য, হৃদয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা। ইফতারের সময় খেজুর, পানি ও সামান্য খাবার নিয়েই তারা রোজা ভাঙে। অনেকের চোখে তখন ভেসে ওঠে পুরনো দিনের স্মৃতি—নিজের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, নিরাপদ জীবন।

রমাদান তাদের জন্য এক ধরনের আত্মিক শক্তি সঞ্চয়ের সময়। বছরের পর বছর কষ্ট, বাস্তুচ্যুতি আর দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু এই মাসে তারা নতুন করে আশা করে—আল্লাহ একদিন তাদের অবস্থা বদলে দেবেন। তাদের দোয়ার বড় অংশ জুড়ে থাকে একটি আকুতি: যেন তারা নিরাপদে নিজেদের দেশে ফিরতে পারে, নিজেদের ভিটেমাটিতে আবার স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে।

শিশুদের অবস্থা আরও স্পর্শকাতর। অনেক শিশু শিবিরেই জন্মেছে, তারা কখনো তাদের জন্মভূমি দেখেনি। শিক্ষার সুযোগ সীমিত, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ফলে অনেক শিশুর মাঝেই পড়াশোনার প্রতি অনিহা দেখা যায়। যখন প্রতিদিনের জীবন টিকে থাকার সংগ্রামে কাটে, তখন স্বপ্ন দেখাও কঠিন হয়ে যায়। তবুও তারা রমাদানে নতুন জামার স্বপ্ন দেখে, একটু ভালো খাবারের আশা করে, স্বাভাবিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা করে।

এই প্রেক্ষাপটে BHAiD Foundation বিশ্বাস করে—রমাদান শুধু ইবাদতের মাস নয়, এটি মানবিকতার মাস। আমরা চাই রোহিঙ্গারা যেন সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। আমরা চাই তাদের শিশুদের জন্য শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হোক। আমরা চাই আন্তর্জাতিকভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হোক।

আমরা আরও চাই—সমাজের সচেতন মানুষরা যেন তাদের কষ্টকে শুধু সংবাদ হিসেবে না দেখে, বরং দায়িত্ব হিসেবে অনুভব করে। মানবিক সহায়তা, দোয়া ও সচেতনতার মাধ্যমে আমরা একসাথে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।

রোহিঙ্গাদের রমাদান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিজের ঘরে স্বাধীনভাবে ইবাদত করা কত বড় নেয়ামত। তাদের কষ্ট আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়, আমাদের মানবিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। BHAiD Foundation প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—মানবিক সহায়তা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাওয়ার জন্য।

হয়তো একদিন তারা সত্যিই নিজেদের দেশে, নিজের ঘরে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রমাদান পালন করতে পারবে। সেই আশাতেই তারা আজও রোজা রাখে, দোয়া করে, অপেক্ষা করে—আর আমরা তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করি।

Website  Facebook  Linkedin  Instagram  Youtube


















Comments

অবশ্য ভালো উদ্যোগ, ধন্যবাদ